Published : 26 Mar 2026, 03:09 PM
রাজধানীর পুরাতন বিমানবন্দর সংলগ্ন জাতীয় প্যারেড ময়দানে আড়াই ঘণ্টার এক জমকালো কুচকাওয়াজ ও মনোমুগ্ধকর ফ্লাই পাস্টের মাধ্যমে উদযাপিত হলো মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস। আজ বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে নয়টায় শুরু হওয়া এই বর্ণাঢ্য আয়োজন দুপুর বারোটা নাগাদ শেষ হয়। প্রথমে প্যারেড স্কয়ারে কুচকাওয়াজ শুরু হয়, যেখানে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সালাম গ্রহণ করেন। সকাল দশটার পর রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন প্যারেড ময়দানে এসে পৌঁছান, এবং প্রধানমন্ত্রী তাঁকে স্বাগত জানান। এরপর রাষ্ট্রপতি সালাম গ্রহণ করেন। জাতীয় সংগীতের সুর বেজে উঠলে দর্শনার্থীরা শ্রদ্ধার সাথে দাঁড়িয়ে যান। রাষ্ট্রপতি খোলা জিপে করে কুচকাওয়াজ পরিদর্শন করেন। এরপর শুরু হয় সুসজ্জিত মার্চপাস্ট। পরিদর্শনের সময় ‘বল বীর বল উন্নত মম শীর’সহ বিভিন্ন দেশাত্মবোধক কবিতা আবৃত্তি করা হয় এবং বাদ্যযন্ত্রের সুর মূর্ছনা সৃষ্টি হয়।
সকাল দশটা ২০ মিনিটে রাষ্ট্রপতি কুচকাওয়াজ শেষ করার অনুমতি দেন। এরপর শুরু হয় আকর্ষণীয় ফ্লাই পাস্ট। সকাল দশটা ৫৫ মিনিটে আকাশ থেকে প্যারাস্যুট নিয়ে অবতরণ শুরু করেন দুঃসাহসী প্যারাট্রুপাররা। জাতীয় পতাকা এবং অন্যান্য পতাকা নিয়ে তাঁরা আকাশ থেকে মাটিতে নেমে আসেন। এরপর সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী, বিজিবি ও র্যাবের বিভিন্ন হেলিকপ্টার ও বিমান জাতীয় প্যারেড স্কয়ারের আকাশে উড়তে থাকে। বেলা ১১টা ১০ মিনিটে সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী, বিমানবাহিনীসহ বিভিন্ন বাহিনীর অত্যাধুনিক সমরাস্ত্র ও সরঞ্জাম প্রদর্শন শুরু হয়। সেনাবাহিনীর ট্যাংক, এপিসি, এন্টি-ট্যাংক ওয়েপন, অটোমেটিক গ্রেনেড লঞ্চার, ১৫৫ মিমি নোরা বি৫২কে১ এসপি গান, এফএম-৯০ সার্চ অ্যান্ড গাইডেন্স ভেহিক্যাল, ড্রোন, ইঞ্জিনিয়ার্স মাইন প্রোটেক্টেড ভেহিক্যাল, রিমোট কন্ট্রোল মাইন/আইইভি ক্লিয়ারিং ভেহিক্যাল, রেডিও অ্যান্ড এক্সেস নেটওয়ার্ক, জ্যামার স্টেশন, লঞ্চিং ভেহিক্যাল ১২২ মিমি মাল্টিপল লঞ্চ রকেট সিস্টেম এস২২ ইত্যাদি উল্লেখযোগ্য ছিল। এরপর নৌবাহিনীর শত্রু জাহাজ ও বিমান অনুসন্ধানী রাডার, বিমানবিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্র, শত্রু জাহাজবিধ্বংসী মধ্যম পাল্লার সমরাস্ত্র, সাবমেরিনবিধ্বংসী টর্পেডো, নতুন সংযোজিত আনম্যানড এরিয়াল ভেহিক্যাল, নিজস্ব প্রযুক্তিতে তৈরি ড্রোন, সমুদ্রের তলদেশীয় নিরাপত্তায় বানৌজা নবযাত্রা ইত্যাদি প্রদর্শন করা হয়। বিমানবাহিনীর অত্যাধুনিক ড্রোনসহ বিভিন্ন সমরাস্ত্রও প্রদর্শিত হয়।
এছাড়া বিজিবি ও ফায়ার সার্ভিসের বিভিন্ন সরঞ্জামও ছিল। বেলা ১১টা ৪০ মিনিটে বিমানবাহিনীর যুদ্ধবিমান, হেলিকপ্টার ও বিমানের মনোমুগ্ধকর প্রদর্শন শুরু হয়। চারটি হেলিকপ্টার জাতীয় পতাকা, সেনাবাহিনীর পতাকা, নৌবাহিনীর পতাকা ও বিমানবাহিনীর পতাকা নিয়ে উড়ে যায়। দর্শনার্থীরা দাঁড়িয়ে হাততালি দিয়ে সম্মান জানান। একপর্যায়ে পাঁচটি বিমান লাল, নীল ও সবুজ রংয়ের ছটা দিয়ে জাতীয় প্যারেড স্কয়ারের আকাশকে রঙিন করে তোলে। বিকট শব্দে যুদ্ধবিমানগুলো চক্কর দিতে থাকে। বেলা ১১টা ৫৩ মিনিটে ফ্লাই পাস্টের সমাপ্তি ঘটে। বীর মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদনের পর দুপুর বারোটার দিকে মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবসের কুচকাওয়াজ ও ফ্লাই পাস্ট অনুষ্ঠান শেষ হয়।।
রাষ্ট্রপতি প্রার্থী মনোনয়নের ক্ষমতা দলীয় প্রধানের হাতে ন্যস্ত করল বিএনপি